ক্রিপ্টোকারেন্সি কেন ক্লাইন্ট পেমেন্ট হিসেবে নিবো?

কাজ করবেন ওয়ার্কপ্লেসে, বিটকয়েন আসবে বাতাসে

ক্লাইন্ট আমাকে বিটকয়েন দিয়ে পে করতে চায়, নিবো নাকি নিবো না, নিলে কীভাবে নিবো?

এই প্রশ্নটা বর্তমানে অনেক ওয়ার্কপ্লেসের ফেসবুক গ্রুপে দেখা যায়। কেও বলে নেন, কেও বলে নিয়েন না, কেও বলে আমাদের দেশে এটা ব্যান আবার কেও বলে আমাকে ইনভক্স করেন কিন্তু কোনো লজিক্যাল উত্তর নেই। তাই চিন্তা করলাম আমার দিক থেকে একটা উত্তর দেই।

বর্তমানে আপওয়ার্ক, ফাইভার্, ফ্রিল্যান্সার ডট কম এবং অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে ক্লাইন্টরা ডলারের পরিবর্তে ক্রিপ্টোকারেন্সি (বিটকয়েন/ ইথেরিয়াম) দিতে পছন্দ করেন। কারন? অই একই, সবাই এখন ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ট্রান্সফার — এগুলার ঝামেলা এড়াতে চান।

বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি এখনও অবৈধ। তবে আমার মনে হয় সরকার খুব দ্রুতই এটাকে বৈধতা দিয়ে দিবেন। কারন সামনে এটারই যুগ, আপনি ব্লকচেইন বাধ দিয়ে দৌড়ে চলা টেকনোলোজির সাথে পেড়ে উঠতে পারবেন না।


এবার আসি প্রথম প্রশ্নের উত্তরে, নিবো নাকি নিবো না?

 আপনি আপনার কষ্টে অর্জিত টাকা কীভাবে নিবেন তা সম্পূর্ণই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মোট কথা আমরা সবাই ই নগদ ডলারটাকে পছন্দ করি। কারন এটা খুব সহজেই বিনিময়যোগ্য। কিন্তু ক্লাইন্ট যদি আপনাকে ডলার অথবা চলমান কোনো কাগজের মুদ্রার বিনিময়ে তার সমমানের ক্রিপ্টোকারেন্সি দিতে চায়, সেক্ষেত্রে আপনার কয়েকটা দিক আগে বিবেচনা করা উচিত। কি কি সেই দিক গুলো —

১. আগে ঠিক করুন, আপনার কি ইমিডিয়েট টাকা লাগতেছে কিনা?

২. ইমিডিয়েট টাকা না লাগলেও, আপনি কি আপনার অর্জিত মুদ্রাকে টাকা হিসেবে আপনার কাছে অথবা ব্যাংকে রাখবেন কিনা?

৩. আপনি সেই মুদ্রা দিয়ে দেশের কোথাও লেনদেন করবেন কিনা? হোক সেটা ১ সপ্তাহের মধ্যে অথবা ১ মাসের মধ্যে।

উপররের ৩ টার উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আমার সাজেশন হবে আপনি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিবেন না ক্লাইন্ট থেকে। তাই নিচের লিখা গুলো পড়া হবে আপনার জন্য নিছকই সময় নষ্ট।


যেহেতু আপনি এখনো পড়তেছেন, ধরে নিলাম উপরের স্টেটমেন্টের সাথে আপনি একমত নন।

যেহেতু বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি এখনও অবৈধ, তাই এটাকে বাংলা টাকাতে রুপান্তর করা বেশ একটা ঝামেলার। ঝামেলা বলতে আপনাকে থার্ড পার্টি খুজতে হবে যে আপনাকে টাকা দিবে ক্রিপ্টোকারেন্সির পরিবর্তে। এক্ষেত্রে ২টা জিনিষ হয় বেশি —

১. আপনি মার্কেট ভ্যালু থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য অনেকটা কম পাবেন।

২. যেহেতু দেশে এটা অবৈধ, তাই কোনো বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম নাই লেনদেন করার, ফলাফল আপনার টাকা মেরে দেওয়ার জন্য অনেক লোক পাবেন।

বাংলা টাকাতে রুপান্তর করার আরেকটা উপায় আছে, সেটা হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে আবার ডলারে রুপান্তর করে সেটাকে আবার টাকায় রুপান্তর করা। তো যেই লাউ সেই কদুই। এর থেকে হাজার ভালো ক্লাইন্ট থেকে সরাসরি ডলার নিয়ে নেয়া।

তো প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন এই ব্লগ পোষ্ট তাহলে?

এই ব্লগ পোষ্টটা হচ্ছে তাদের জন্য যারা এতো ঝামেলা পোহাতে রাজি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিকে পেমেন্ট হিসেবে নিতে চায় এবং এটা নেয়ার ফলাফল গুলো জানতে চায়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট — কয়েনমার্কেটক্যাপ

ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট এখনো নতুন এবং পাশাপাশি খুবই দ্রুত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনশীল বলতে এমনই পরিবর্তনশীল যে ১ ঘন্টা আগে দেখেছেন বিটকয়েনের মূল্য ৬০০০ আমেরিকান ডলার, ১ ঘন্টা পরে সেটা ৮০০০ ও হয়ে যেতে পারে আবার ৪০০০ ও হয়ে যেতে পারে। নিচে বিটকয়েনের এই সপ্তাহের মূল্য চার্ট দেখুন —

বিটকয়েন মূল্য চার্ট — ৩ থেকে ১০ অগাস্ট ২০১৮

বিটকয়েন সহ অন্যান্য সকল ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য চার্ট থেকে শুরু করে সকল খবরাখবর পাওয়া যাবে এমন জনপ্রিয় একটা ওয়েবসাইট হচ্ছে কয়েনমার্কেটক্যাপ


এতো পরিবর্তনশীল মার্কেট হলে তাহলে কেন নিবো ক্রিপ্টোকারেন্সি?

ভাই, এটাইতো আসল মজা। এখানেই আপনি আসলে ভাগ্যের চাকা ঘুরায়ে দিতে পারবেন। কীভাবে? তার আগে চলুন দেখি বর্তমানে কোন কোন ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয় করা অথবা পেমেন্ট হিসেবে নেয়া উচিত অথবা নিয়ে সেফ থাকা যাবে।

১. বিটকয়েন (BTC) — সবচেয়ে সেইফ এবং অবশ্যই এটাকে নেয়া/ক্রয় করা উচিত। এটা এবং ইথেরিয়াম ছাড়া অন্যান্য সকল ক্রিপ্টোকারেন্সিই পেমেন্ট হিসেবে নেয়া বোকামি। কারণটা বলতেছি নিচে।

২. ইথেরিয়াম (ETH) —  বিটকয়েনের পর ক্রিপ্টো বিশ্বে সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি হচ্ছে এই ইথেরিয়াম। মাত্র ১৯ বছরের ভিটালিক বুতেরিন নামক এক রাশিয়ান যুবক এই কয়েনটি ডেভেলপড করেন।

উপরের এই ২টা কয়েন ছাড়া বাকি সবগুলো কয়েনই পেমেন্ট হিসেবে নেয়া রিস্ক। আমি বিটকয়েনই নেই সবচেয়ে বেশী। তাই বিটকয়েন নেয়া সবচেয়ে বেশী লাভবান কেন সেটা বলতেছি।

২০১৭ সালে জন ম্যাকাফি সহ আরও অনেক ক্রিপ্টো ট্র্যাডাররা বলেছেন ২০২০ নাগাদ বিটকয়েনের মূল্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্পর্শ করবে। এবং বিটকয়েনের মার্কেট যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আমিও তা মনে করি। কেন বিশ্বাস করি দেখুন —

সর্বমোট মাত্র ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন সাপ্লাই দেয়া হবে। এরপর বিটকয়েন উৎপাদন করা বন্ধ হয়ে যাবে। উপরের ছবি অনুযায়ী বর্তমানে ১৭.২ মিলিয়ন বিটকয়েন অলরেডি মার্কেটে সাপ্লাই দেয়া হয়ে গেছে। বিটকয়েন উৎপাদন করা আস্তে আস্তে সময় সাপেক্ষ এবং কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। যত কষ্টসাধ্য হবে বিটকয়েনের মূল্য তত বাড়তে থাকবে। ক্যালকুলেশন বলে ২১৪০ সালে যেয়ে বিটকয়েন তার সর্বমোট ২১ মিলিয়ন কয়েন সাপ্লাই করতে পারবে। এবার বুঝেন ২১৪০ সাল পর্যন্ত এটার দাম খালি বাড়তেই থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৯ সাল অর্থাৎ এই বছরের শেষে ১টি বিটকয়েনের মূল্য ৩০,০০০ মার্কিন ডলারে পৌছাবে এবং ২০২০ এর শেষ দিকে সেটা ১,৪০,০০০ মার্কিন ডলারেও পৌছাতে পারে। গতবছরের শেষে ১টি বিটকয়েনের মূল্য ছিল ২০,০০০ মার্কিন ডলার প্রায়।

না, আমি আপনাকে বিটকয়েন কিনার জন্য লোভ দেখাচ্ছি, আর দেখায়েও লাভ নাই, আমার কোনো আর্থিক উন্নতি হবে না এতে। কিন্তু এটাই সত্যি। বিটকয়েনের দাম একটা সময় আকাশচুম্বি হবে। এবং এটাও সত্য বিটকয়েন কিনে অথবা পেমেন্ট হিসেবে নিয়ে আপনি কখনো ঠকবেন না। কারন এটা যেকোনো সময় আপনাকে বড়লোক বানায় দিতে পারে। আমি এখনো আমার বিটকয়েনের অরিজিনাল ভ্যালু থেকে ৪০% ডাউনে রয়েছি, কিন্তু এটা জানি যে এই ৪০% ই এ বছরের শেষে ৮০% হয়ে যাবে।

একটা জিনিষ লক্ষ্য করবেন, ইউরো অথবা পাউন্ড এদের মূল্য যত বেশীই হোক না কেন সবাই এদেরকে মার্কিন ডলারের সাথে তুলনা করে। ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে বিটকয়েনও সেম। একমাত্র পৃথিবী উল্টে না যাওয়া পর্যন্ত এই দুইটা কখনই মার্কেট থেকে গায়েব হয়ে যাবে না। কারন এদের ডিজাইন প্যাটার্নটাই অন্য রকম। বিটকয়েনের ডিজাইন প্যাটার্ন নিয়ে অন্য একদিন লিখবো।

আশা করি আমি কিছুটা হলেও কেন বিটকয়েন পেমেন্ট হিসেব নিবেন এবং নিলে কি লাভ হতে পারে না পরিষ্কার করতে পেরেছি। অন্য আরেকদিন কীভাবে বিটকয়েন ক্রয় করবেন অথবা পেমেন্ট হিসেবে নিতে পারেন তা নিয়ে লিখবো।


এই লিখাটি পূর্বে আমার ব্যাক্তিগত ব্লগে পাব্লিশ হয়েছে। পড়তে পারবেন এখান থেকে —

আমি এর আগে ব্লকচেইন কি? তা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছি। পড়তে পারবেন আমার ব্লগ থেকে —

মিডিয়ামে থেকেও পড়তে পারবেন —

Posts created 18

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Related Posts

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top
Scroll Up