আনরিয়েল ইঞ্জিন ৪ — BLUEPRINT ভ্যারিয়েবলস

আজকের পর্বে লিখবো BLUEPRINT এর ভ্যারিয়েবলস নিয়ে। কী কী ভ্যারিয়েবলস ব্যবহার করা যাবে এবং ঠিক কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা নিয়ে। আমি আগের ব্লগ গুলোতে আনরিয়েল ইঞ্জিন ৪ এর ইন্ট্রোডাকশন, কীভাবে ইন্সটল করতে হবে এবং ব্লুপ্রিন্টের ছোট একটা ইন্ট্রোডাকশন লিখেছি। পড়তে পারবেন এখান থেকে —

আনরিয়েল ইঞ্জিন ৪ ওপেন করার পরই আপনাকে সিলেক্ট করে নিতে হবে আপনার গেমের মেইন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোনটা ব্যবহার করবেন। দুইটা অপসন থাকবে আপনার কাছে —

1. BLUEPRINT
2. C++     (Compiler - Visual Studio 2013 or later version Required)

যেহেতু আমরা BLUEPRINT নিয়ে কাজ করবো তাই BLUEPRINT সিলেক্ট করবো এবং আনরিয়েল ইঞ্জিন ৪ এর প্রজেক্ট ব্রাউসারে অনেক গুলো গেম টেমপ্লেট থাকে, নির্ভর করে কেমন টাইপ গেম বানাবো আমরা, এটা নিয়ে বিস্তারিত পরে লিখবো। যেহেতু আমরা শুধু ভ্যারিয়েবল নিয়ে কাজ করবো তাই শুধু Blank টেমপ্লেট নিয়ে কাজ করবো। তারপর নিচে Target Hardware সেকশন থেকে কোন প্লাটফর্ম এর জন্য গেম বানাবো এবং গেমের কোয়ালিটি কেমন হবে তা সিলেক্ট করে নিবো এবং গেমে কোনো স্টারটার কনটেন্ট যুক্ত করবো কি করবো না তা সিলেক্ট করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা আজকে কাজ করবো নিম্নের সেটিংসে —

প্রজেক্ট সেটিংস

 

সব সেটিংস ঠিক থাকলে প্রজেক্ট ব্রাউসার দেখা যাবে অনেকটা এরকম ভাবে —

প্রজেক্ট ব্রাউসার

 

তারপর Create Project এ ক্লিক করলে একটা ডিফল্ট লেভেল ওপেন হবে, এখান থেকে গেমের সব কাজ শুরু হবে।

ডিফল্ট লেভেল

 

এবার কথা বলি ভ্যারিয়েবলস নিয়ে। ভ্যারিয়েবল গুলো হচ্ছে একধরনের কন্টেইনার অথবা প্রোপারটিস যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু টাইপের ভ্যালু ধরে রাখে অথবা কোনো অবজেক্টের রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে। এই প্রোপার্টিস গুলো BLUEPRINT এর ভিতর থেকে এক্সেস করা যাবে আবার গ্লোবাল ভ্যারিয়েবল হিসেবে গেমের অন্যান্য লেভেল থেকেও এক্সেস করা যাবে। BLUEPRINT গ্রাফে ভ্যারিয়েবল গুলো থাকে গোলাকার বক্সের আকারে।

ভ্যারিয়েবল বিভিন্ন টাইপের তৈরি করা যায় — যেমনঃ বুলিয়ান, ইন্টেজার, ফ্লোট এবং পাশাপাশি অব্জেক্টস, এক্টর এবং নির্দিষ্ট ক্লাশ হোল্ড করে রাখার জন্য রেফারেন্স হিসেবে ভ্যারিয়েবল তৈরি করা যায়। নির্দিষ্ট টাইপের কয়েকটা ভ্যারিয়েবলস দিয়ে অ্যারেও তৈরি করা যায়। BLUEPRINT এ ভ্যারিয়েবলস রয়েছে ৯ টাইপের। সেগুলো হচ্ছে —

1. Boolean
2. Interger
3. Float
4. String
5. Text
6. Vector
7. Rotator
8. Transform
9. Object

প্রতিটা টাইপের ভ্যারিয়েবলকে নির্দিষ্ট রং দিয়ে চিন্থিত করা যায়। প্রতিটা টাইপের ভ্যারিয়েবল কি কাজ করে এবং কি রং এর তা নিচের ছবিটা থেকে বুঝা যাবে।

বিভিন্ন ভ্যারিয়েবল টাইপের নির্দিষ্ট রং

 

এবার ভ্যারিয়েবলস তৈরি করার পালা —

১। প্রথমেই উপরের ভিডিওটি ফলো করে BLUEPRINT গ্রাফ ট্যাব ওপেন করে নিতে হবে।

২। তারপর MyBlueprint উইন্ডো থেকে Variables + লিস্টের Add Button+ চিহ্নে ক্লিক করুন।

MyBlueprint উইন্ডো

 

৩। একটি নতুন ভ্যারিয়েবল তৈরি হবে এবং এটার নাম এন্ট্রি করুন। এরপর Details উইন্ডো থেকে ভ্যারিয়েবলের বিহ্যাভিয়ের এবং কিভাবে ব্যবহার হবে সেসব সেটিংস সেট করে নিতে হবে।

ভ্যারিয়েবলের নাম এনট্রি

 

৪। Details প্যানেলে অনেক গুলো সেটিংস থাকে যেটা থেকে ভ্যারিয়েবলের ব্যবহার ডিফাইন করা যাবে।

Details প্যানেল

 

চলুন দেখি এই সেটিংস গুলো কোনটা কি কাজের জন্য —

1. Variable Name — ভ্যারিয়েবল এর নাম ঠিক করার জন্য।

2. Variable Type — ড্রপডাউন মেন্যু থেকে ভ্যারিয়েবল টাইপ সিলেক্ট করার জন্য এবং ভ্যারিয়েবলটা কি অ্যারে কিনা সেটা সিলেক্ট করার জন্য।

3. Editable — ভ্যারিয়েবলটি পাব্লিক ভাবে এডিট করার অনুমতি দিতে পারবেন এখান থেকে। মানে BLUEPRINT এর বাইরে থেকেও এই ভ্যারিয়েবলটিকে এডিট করা যাবে।

Editable সেটিংস

 

Editable সেট করা যাবে ডিটেইলস প্যানেলের Editable সেটিংস থেকে অথবা My Blueprint এ ভ্যারিয়েবলের ডান পাশের চোখটিতে ক্লিক করে। চোখটি যখন বন্ধ থাকবে তখন ভ্যারিয়েবলটিকে বাইরে থেকে এডিট করা যাবে না। যখন খোলা থাকবে তখন বাইরে থেকে এডিট করা যাবে।

4. Tooltip — এক্সট্রা ইনফরমেশন ভ্যারিয়েবলে যুক্ত করার জন্য, যখন মাউস কারসার ভ্যারিয়েবলের উপর থাকবে তখন এই ইনফরমেশন গুলো দেখাবে।

টুলটিপ

 

5. Expose on Spawn — BLUEPRINT ওপেন করার সময় এই ভ্যারিয়েবলটিকে পিন হিসাবে দেখাতে পারবেন এখান থেকে।

6. Private — ভ্যারিয়েবলটিকে প্রাইভেট হিসেবে সিলেক্ট করতে পারবেন, এটাকে অন্য কোনো BLUEPRINT মডিফাই করতে পারবে না তাহলে আর। চেকমার্কটিকে আনচেক করে দিলেই এটাকে আবার মডিফাই করা যাবে।

7. Expose to Matinee — মাটিনি সফটওয়্যারে এই ভ্যারিয়েবলটি এক্সপোসড করতে পারবেন এখান থেকে। মাটিনি হচ্ছে আনরিয়েল ইঞ্জিন ৪ এর এনিমেশন টুল, যেটা দিয়ে সিনেমাটিক ইন-গেম সিকুয়েন্স অথবা ডায়নামিক গেমপ্লে তৈরি করা হয়।

8. Config Variable — কনফিগ ফাইল থেকে ভ্যারিয়েবল সেট করতে পারবেন এই অপশন থেকে।

9. Category — ভ্যারিয়েবলকে লেভেল দিয়ে ক্যাটাগরাইজড করতে পারবেন, পরবর্তীতে এই লেভেল দিয়ে ভ্যারিয়েবল গুলো সর্ট করা যাবে।

10. Replication — সিলেক্ট করতে পারবেন এই ভ্যারিয়েবলটি নেটওয়ার্কে রিপ্লেকেট করবে কিনা।

ভ্যারিয়েবল নিয়ে কাজ করার পর আপনি এদেরকে ব্যবহার করতে চাইবেন। এর জন্য ২টা রাস্তা আছে। প্রথমটা হচ্ছে GET নোড (Getter) — ভ্যারিয়েবলের ভ্যালু পাওয়ার জন্য এবং SET নোড (Setter) — ভ্যারিয়েবলের ভ্যালু সেট করার জন্য।

আপনি চাইলে BLUEPRINT গ্রাপে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে SET অথবা GET টাইপ করেও ভ্যারিয়েবল এসাইন করতে পারেন।

আরেকটি ম্যাথোড হচ্ছে, MyBlueprint উইন্ডো থেকে CTRL— KEY চেপে ভ্যারিয়েবলটাকে ড্র্যাগ করে গ্রাপে ড্রপ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে GET নোড নিজেনিজেই তৈরি হবে এবং SET নোড তৈরি করার জন্য ALT — KEY চেপে ড্র্যাগ করতে হবে।

আজ এই পর্যন্তই, পরবর্তী পর্বে লিখবো স্ট্রাক্ট ভ্যারিয়েবল নিয়ে।

… ধন্যবাদ!

#হ্যাপি_প্রোগ্রামিং

Posts created 18

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Related Posts

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top
Scroll Up